Search This Blog

Tuesday, September 22, 2020

হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ

বিক্রমপুরের মহাপরাক্রমশালী রাজা বল্লাল সেন ছিলেন ঘোর তান্ত্রিক। তিনি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বশবর্তী হয়ে মসজিদ গুলোকে মন্দিরে পরিণত করেন এবং বিক্রমপুরে গরু জবেহ ও আযান দিয়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেন। রামপালের নিকটস্থ আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কানাইচং মাঠের জনৈক মুসলমান তার পুত্রের জন্ম উপলক্ষে অতি সঙ্গোপনে গরু জবেহ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে একটি চিল ছো মেরে এক টুকরো মাংস নিয়ে বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদের আঙ্গিনায় ফেলে। ফলে বল্লাল সেন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে গো হন্তাকে খোঁজে বের করার জন্য গুপ্তচর নিয়োগ করেন। বল্লালী নির্যাতনের ভয়ে উক্ত গোহন্তা বিক্রমপুর থেকে পালিয়ে গিয়ে মক্কায় হাজির হন। 

তখন মক্কায় বাবা আদম নামক এক ধর্মান্ধ জবরদস্ত ফকীর ছিলেন। উক্ত ব্যক্তি বল্লালী নির্যাতনের প্রতিকারের জন্য বাবা আদমের শরনাপন্ন হন। পৌত্তলিক বল্লাল কর্তৃক মুসলিম নির্যাতনের কাহিনী দরবেশকে আদ্যোপান্ত বলেন। বিক্রমপুরে বল্লাল রাজার অধীনতা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করবেনই করবেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিমিষে ৭ (সাত) হাজার সৈন্য সংগ্রহ করেন এবং এই সৈন্যবাহিনী নিয়ে তিনি মক্কা থেকে বিক্রমপুর অভিমুখে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন। পথে পথে অনেক যুদ্ধ জয়ের পর অবশেষে তিনি এবং তার সৈন্য বাহিনী বল্লাল রাজার রাজধানী রামপালের উপকন্ঠে দরগাবাড়িতে এসে ঘাঁটি গাড়েন। এখানে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজের নামে মসজিদটি নামকরণ করেন বাবা আদমের মসজিদ। এই মসজিদটিকে কেন্দ্র করেই বাব আদম ইসলামী আচার অনুষ্ঠান প্রকাশ্যেই পালন করা শুরু করেন। অনেক ষাঁড় ও গাভী জবে হ করা হতে থাকে। আজান দিয়ে নামাজ পড়া শুরু হয়। এই আজানের শব্দ বল্লাল

সেনের রাজপ্রসাদের অভ্যন্তর ভাগেও গিয়ে পৌঁছে। এতে বল্লাল ক্রুদ্ধ হয়ে নবাগত মুসলিম সৈন্যবাহিনীর নেতা বাবা আদমের কাছে কয়েকটি দাবী রেখে দূত পাঠান। দূত এসে বাবা আদমকে বলেন, “হয় বিক্রমপুর ছেড়ে চলে যাও নয় পৌত্তলিকতা বিরোধী আচার অনুষ্ঠান প্রতিপালন থেকে বিরত হও।” কিন্তু অলৈকিক ক্ষমতাসম্পন্ন দরবেশ বাবা আদম এতে দমাবার পত্র নন। তিনি তার অসংখ্য ভক্তের সমর্থনে নিশ্চিত হয়ে পরাক্রমশালী বল্লাল সেনের কাছে এক ঔদ্ধত্বপূর্ণ উত্তর পাঠালেন। তিনি বললেন, “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই এবং মোহাম্মদ (দঃ) তার রসূল। পৌত্তলিক বল্লাল রাজা যাই বলুন না কেন আর যাই করুন না কেন আমি এবং আমার সমর্থন আমাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান প্রতিপালন থেকে এক চুল পরিমাণও বিরত হব না”। এহেন ঔদ্ধত্বপূর্ণ উত্তরে বাধ্য হয়েই বল্লাল সেন সৈন্য সংগ্রহ করে বাবা আদমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করলেন। তবে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুসলিম সৈন্য বাহিনীর বিজয় ও পরাক্রমের কাহিনী অবহিত থাকাতে পরাজিত হলে যাতে শত্রুর হাতে বন্দী হয়ে মানসম্ভ্রম খোয়াতে না হয় সে জন্য তিনি আগেভাগেই ব্যবস্থা করে রেখে যান। তিনি সাথে করে একটি কবুতর নিয়ে যান এবং বলে যান যে, পায়রাটি একা রাজপুরীতে ফিরে এলে রানী এবং রাজপরিবারের অপরাপর সদস্যগণ যেন মনে করেন যে রাজা যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হয়েছেন। আর তারাও যেন জাতিধর্ম রক্ষার জন্য অমনি জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে আত্মবিসর্জন দেন। এই উদ্দেশ্যে পূর্ব থেকেই রাজপুরীতে একটি অগ্নিকুন্ড প্রজ্বলিত ছিল। রাজধানী রামপালের মাইল দুই দূরবর্তী কানাইচঙ্গের মাঠে প্রত্যুষকালে থেকে তৃতীয় প্রহর পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। বল্লাল সেন বাবা আদমকে নিহত করেন। বল্লাল যুদ্ধে জয়ী হয়ে রক্তমাখা দেহ ধোয়ার জন্য যেই পার্শ্ববর্তী জলাশয় “কাঁছারীর দীধিতে” অবতরণ করেন অমনি দৈবক্রমে পায়রাটি বস্ত্রাভ্যন্তরে থেকে উড়ে গিয়ে রাজপুরীতে পৌঁছে। আর তক্ষুণি রাণী ও রাজপরিবারের অপরাপর সদস্যবৃন্দ ও রাজার পরাজয় ও মৃত্যু আশঙ্কা করে সেই জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে আত্মবিসর্জন দিলেন। এদিকে বল্লাল সেনও পায়রা ছুটে যাওয়া মাত্রই যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পাগলের মতো রাজধানী রামপাল অভিমুখে ছুটে এলেন। কিন্তু ইতিমধ্যে সবাই শেষ হয়ে গেছে। এই শোক সহ্য করতে না পেরে রাজও ঐ একই চিতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহুতি দিলেন। ফলে বিক্রমপুর মোসলমানদের করতলগত হল। শহীদ দরবেশ বাবা আদমকে সমাহিত করা হল তৎকর্তৃক নির্মিত মসজিদের গজ কয়েক পূর্বে। তখন থেকেই মসজিদটির নাম হল বাবা আদমের মসজিদ আর সমাধিটির নাম হল বাবা আদমের দরগা। 


ইতিপূর্বে একটি জনশ্রুতি থেকে আমরা জানতে পেয়েছি যে, বাবা আদম মক্কা থেকে এসে বিক্রমপুরের দরগাবাড়িতে একটি

মসজিদ নির্মাণ করান এবং নিজের নামে এর নামকরণ করেন বাবা আদমের মসজিদ। অন্য একটি জনশ্রুতির তথ্য একটু ভিন্ন ধরনের আমরা দেখতে পেয়েছি। এতে আছে বল্লাল সেনের সাথে ফকীর বাবা আদমের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বাবা আদম নিহন হন। বাবা আদম যে জায়াগায় নিহত হন ঠিক সে জায়গায়ই অলৌকিকভাবে এক রাতের মধ্যেই একটি মসজিদ তৈরী হয়ে যায় এবং মসজিদ থেকে গজ কয়েক পূর্বে তার মরদেহ অলৌকিকবাবে সমাহিত হয়। মসজিদটির নাম হয় বাবা আদমের মসজিদ আর মাজারটির নাম হয় বাবা আদমের মাজার। 

মাজারটিতে কোন পরিচয় ফলক নেই। মসজিটির প্রধান প্রবেশ পথের উপরে একটি পরিচয় ফলক রয়েছে। তুঘরা অক্ষরে উৎকীর্ণ এই শিলালিপি থেকে দেখা যায়, এই মসজিদটি নির্মিত হয় ১৪৮৩ খ্রীষ্টাব্দে। নির্মাণ করেন কাফুর নামে একজন মালিক বা পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা। শিলালিপির বাংলা অনুবাদ হচ্ছে, “সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মসজিদ আল্লাহর সম্পত্তি, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করো না”। নবী (সাঃ) বলেছেন, যিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করান আল্লাহ তার জন্য বেহেস্ত একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন” এই জামে মসজিদ নির্মাণ করার মহান মালিক কাফুর, সুলতান মোহাম্মদ শাহ’র পুত্র সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহর আমলে, ৮৮৮ হিজরীর রজব মাসের মধ্যভাগে”। 

শিলালিপিতে মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতার নাম রয়েছে- কাফুর। সুলতানের আমলে নির্মিত হয় বলে তার পিতার নামসহ তার

নাম রয়েছে-সুলতানা মোহাম্মদ শাহর পুত্র সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহ্ প্রতিষ্ঠার তারিখ রয়েছে ৮৮৮ হিজরীর রজব মাসের মধ্যভাগ। মসজিদটির নাম রয়েছে-জামি মসজিদ। কেন প্রতিষ্ঠা করা হয় তার কারণ রয়েছে- পূর্ণ অর্জনের জন্য। অর্থাৎ মসজিদটির নির্মাণ সম্পর্কীয় সমস্ত তথ্যই রয়েছে। কিন্তু কথিত বাবা আদমের কোন উল্লেখ নেই, উল্লেখ নেই কোন মাজারেরও। 


তদুপরি কথিত বাবা আদমের সাথে বল্লাল সেনের যুদ্ধ হয় দ্বাদশ শতাব্দীতে কেননা রাজা বল্লাল দ্বাদশ শতাব্দীরই মানুষ। মসজিদটি নির্মিত হয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষপদে। অর্থাৎ কথিত বাবা আদমের নিহত হওয়ার ৩০০ (তিন শত) বছরেরও অধিকার পরে। ৩০০ (তি শত) বছর পূর্বের কোন ধর্মপ্রচারক বীর শহীদের স্মরণার্থে যদি এই মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং সেই ধর্মপ্রচারক শহীদের নামানুসারে এই মসজিদটির “বাবা আদমের মসজিদ” নামকরণ হয় তা হলে শিলালিপিতে সে নামটিই প্রতিষ্ঠাতার নামের চেয়েও বেশী গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করার কথা। কিন্তু সে ধরনের কোন নামই পরিচয় ফলকে নেই। সুতরাং এখান থেকে পরিস্কার ভাবেই প্রমাণ মেলে যে, এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা মালিক কাফুর এই মসজিদের “বাবা আদমের মসজিদ” এই নামকরণটি করেন নি। 

কিভাবে যাওয়া যায়: ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জ। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপালে হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মাজার সংলঘ্ন মসজিদ অবস্থিত। সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের দূরুত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। তবে এই মাজারে আসার জন্য আরো ০৫ (প্রায়) কিলোমিটার ভিতরে আসতে হবে। ঢাকা হতে সকালে এসে মাজার জিয়ারত ও মসজিদ দর্শন করে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসা যাবে। সড়কপথে যেতে কষ্ট হবে না। তবে নৌপথে গেলে সময়ও বাচঁবে এবং যানজট এড়িয়ে নদী পথের সৌন্দর্য অবগাহন করে স্বাচ্ছন্দের সাথে পৌছানো যাবে। সদর ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জ গামী লঞ্চে ২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাওয়া যাবে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা হইতে রিক্সায় দরগাবাড়ি হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মাজার সংলঘ্ন মসজিদ এ যাওয়া যায়। ভাড়া ২৫-৩০ টাকা।

Sunday, November 12, 2017

সিমান্ত নদী, পাথর আর পাহাড়ে জাফলং



বৈচিত্র আর আপরুপ সৈন্দ্যর্য বাংলাদেশ, পাহাড় নদী সাগর যা চাই সব আছে এই বাংলার আমাদের দেশের উত্তর পূর্বের হযরত শাহজালাল () আর শাহ পরানের পূর্ণভুমি সিলেট সিলেট থেকে উত্তরে প্রায় ৬০ কিমি: দূরে জাফলং এবার আমাদের ভ্রমণের যাত্রাপথ গত কোরবানীর ঈদের রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করি সিলেটের উদ্দেশ্যে সিলেট শহরে থাকার ব্যবস্থা আগে থেকেই করা ঠিল ভোরের আলো ফোটার আগেই সিলেট হুমায়ুন চত্তরে বাস আমাদের নামিয়ে দিলো তখন ভোড় .৩০মিনিট, আমি আর আমার ছোট ভাই নাজমুল হুমায়ুন চত্তরে অপেক্ষা করতে লাগলাম ভোরের আলো ফোটার জন্য সূর্যি মামা উঠার সাথে সাথে আমরা সিলেট উপশহরে ডরমেটরিতে পৌছাই
সেখান থেকে আমাদের সাথে যুক্ত হয় সিলেট অফিসের মনির মনির আমাদের ভ্রমণ সাথী গাইড আমরা  মোট তিনজন সকাল ৯টায় জাফলং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি সোবহানী ঘাট থেকে বাস সরাসরি যায় জাফলং পর্যন্ত পৌছাতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে সিলেট শহর থেকে একটু বের হতেই পথে শাহ পরান () এর মাজার আর একটু সামনে শ্রীপুর যেতেই দুপাশে সবুজ মাঠ আর ছোট ছোট নদী আর সামনে বিশাল পাহাড় পাহাড়গুলো হচ্ছে ভারত অংশে কিন্তু বাংলাদেশ অংশ থেকে আমাদের চোখ জুড়ায় পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য ছোট বড় ঝরনা বিচিত্র রকামের মানুষের আনাগোনা আর নদী আপনাকে জাফলং বাজার পর্যন্ত যেতে হবে না তার আগের মামুর বাজারে বাস থেকে নেমে যেতে হবে জাফলং বাজার আসলে দেখার মতো কিছুই নেই মামুর বাজার নেমে পনের থেকে বিশ মিনিট হাটতে হবে কারণ এই অংশটুকুর রাস্তা ভালো না আর হাটলেও খুব একটা কষ্ট হবেনা বাজার থেকে যেতে দু,পাশের বাজার, পাহাড়, পাথরের কারখানা পাথরের হাট দেখে অনেক মজা পেয়েছি হাটার ক্লান্তিটুকু আরও ভুলিয়ে দিয়েছে পাটা-পুতার বাজার কারখানা আমাদের ঘরে আগের দিনের শিল পাটাতে মশলা বেটে রান্না করা হতো সেই শিল পাটা তৈরির একটা কারখানা এখানে রয়েছে কাঁচামালের সহজলভ্যতার কারণে এখানে এই শিল্পটি গঢ়ে উঠে কিন্তু সেই শিল্পীটি আজ বিলুপ্তির পথে যারা এখানে কাজ করে তারা চায় না যে তাদের পরের প্রজন্মের কেউ এই পেশায় আসুক কারন একটাই আগের মত আর পাটাপুতার চাহিদা নেই পাটাপুতার বাজারের পরই নদী শুরু আর মূলত এখান থেকেই জাফলং এর রুপ শুরু দুই পাশে পাথরের বিশাল বিশাল স্থুপ দেখে মনে হচ্ছে পাথরের পাহাড় ডান দিকে পাথরের পাহাড় আর বাম দিয়ে বয়ে গেছে পিনাই নদী এই নদী থেকেই তোলা হয় পাথর যে পাহাড়কে কেন্দ্র করেই এখনে এখানের বানিজ্য আর সামনে যেটা আছে সেটা বাংলাদেশ ভারত সিমান্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া আর প্রকৃতিক আবহাওয়া ভালো হলে আপনি দুই বর্ডার লাইনের মাঝে দাড়িয়ে অন্য রকম সুখ অনুভব করতে পারবেন পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই ভারত বর্ডারে পা রেখে ছবিতোলার সুখ আলাদা পিনাই নদীর পাড় হয়ে আপনি অপর পাশ দিয়ে বাংলাদেশ অংশের চা বাগান মনিপুরী পাড়া দেখে আসতে পারবেন নদী থেকে পাথর তোলা হয় সব সমই কিন্তু ঈদের পরের দিন কোন শ্রমিক কাজ না করায় আমরা পাথর তোলার দৃশ্য দেখার সুযোগ হলো না নদীতে এক ধরনের বিশেষ নৌকা দিয়ে পাথর তোলা হয় ঈদের সময় বলে পাথর তোলা হচ্ছেনা তাই, নৌকা গুলো পাড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে অবসর, তাই নৌকার মাঝিরাই পর্যটকদের নদী পার করে অন্য পারে নিয়ে যাচ্ছে সিমান্ত নদীর পার পৌছানোর পরপরই মাঝিরা আমাদের তাদের নৌকার চড়ার আহবান জানাতে থাকে আমাদের ভ্রমণ সাথী মনির আমাকে আগের থেকে বলে দিয়েছে এখানে থেকে নৌকায় না উঠার জন্য কারণ আমরা হেটে হেটে যত যেতে থাকবো ততই ভালো দেখতে পারবো আবার ইচ্ছে মতো ছবি তুলতে পারবো পিনাই নদীর সৌন্দ্যর্যে আমি মুগ্ধ নদীটি ছোট হলে এর সৌন্দ্যর্য অপূর্ব নদীতে প্রচুর ¯্রােত পাথর তোলার নৌকা, নদী, পাহার আর আর নীল আকাশ মিলে সে যেন এক অপরুপ দৃশ্য আর সামনে আছে ভারত অংশে পাহাড়ে সেখানকার আদি বাসিদের রং বেরঙ্গের বাড়ি, রাস্তা আর মানুষ দেখা যাচ্ছে আরও একটি জিনিস আছে বিচিত্র, সেটা হচ্ছে হেলানো বিশাল একটি পাথর, যতই সামনে যাচ্ছি ততই পাহারটি বড় আর র্স্পষ্ট হতে থাকে পাথরটি একদিতে হেলানো কিন্তু পরে যাচ্ছেনা


সিমান্তের মূল খন্ডের অনেক আগেই দংশ প্রায় এটি সাইন বোর্ডে লেখা, “বাংলাদেশের সিমান্ত রেখা এই পর্যন্ত শেষকিন্তু আরও সামনে যাওয়া যায়, আমরা গেলাম আসলে দুপুর দুইটা আগে গেলে যাওয়া যায় তাও সব সময় না  তাই আমরা সামনে যেতে থাকি যে দিকে তাকাই শুধু পাহাড় আর পাহাড়


বাংলাদেশ ভারত সিমান্ত যেখানে ভারতীর সিমান্ত রক্ষী বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড সিমান্ত পাহারা দিচ্ছে তার ঠিক আগে সিমান্তটি খুব অদ্ভুত ছোট একটি পায়ে হাটা নদী যায় পারে বাংলাদেশ আর ওপারে ভারত নৌকায় করে অবশেষে আমরা নদীর পার হই পার হলে মূল অংশটি ভারতের কিন্তু পা রাখার মত ছোট একটি অংশ আছে বাংলাদেশ কিছু অস্থায়ী দোকানও আছে আবার একজন বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড সৈনিকও আছে সিমানা লাইনের এপারে, যাতে কোন বাংলাদেশী ভুল করে ভারতীয় অংশে প্রবেশ না করে ফেলে এখানে আড়াআড়ি ভাবে বাংলাদেশ ভরত ভারতে সিমান্ত রক্ষীদের একাটি সিমান্ত চৌকিও আছে একটি মাত্র লাল সাইন বোর্ড লেখা সামনে ভারত অতিক্রম করা নিষেধ, বিজিবি এই বোর্ড দিয়ে দুটি দেশের সীমানা আলাদা করা হয়েছে আমরা দু দেশে দাড়িয়ে ছবি তুলি, মজা করি ভুলক্রমে ভারত অংশে বাংলাদেশী কেউ ডুকে পরলে বিএসএফ বাশি বাজিয়ে সর্তক করে দেয় এখানে সাত আটটি ছোট টং ঘরের অস্থায়ী দোকান রয়েছে এখানে ভারতীয় বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায় আমরা যেমন সীমান্ত দেখতে গিয়েছি তেমনি, ভারতীয় লোকজনও তাদের সিমান্ত দেখতে এসেছে আমরা যেমন তাদের দেখছি, তারাও আমাদের দেখছে আর স্থানীয়রা যে যার দৈনিক কাজ নিয়ে ব্যাস্ত কি অদ্ভুত মাত্র কয়েক হাতের দূরত্ত কিন্তু, দেশ আলাদা ভাষা আলাদা, জাতীয়তা আলাদ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা অবশেষে আমাদের ফেরার পালা আমরা আবার নৌকায় করে নদী পার হয়ে আমাদের ফেরার পথে পা বাড়াই, পিছনে পরে থাকে বাংলাদেশ ভারত সিমান্ত