Search This Blog

Saturday, February 2, 2013

নিঝুম দ্বীপ





নিঝুম দ্বীপ! সে এক অজানা মায়াবী রহস্যের দ্বীপ। ধীরে ধীরে অবগুষ্ঠন খুলে উন্মোচন করছে নিজেকে। দূর সমুদ্র থেকে হাতছানি দেয় সে। চপলা লাস্যময়ীর মতো ইশারায় কাছে ডাকে যেন। সমুদ্রের ডাক শুনতে সবাই ছুটে যায় কক্সবাজার। বাংলাদেশে সমুদ্র সৈকত বলতে আমরা বুঝি কক্সবাজার-টেকনাফ কিংবা কুয়াকাটা। অথচ নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ সমুদ্র ও তার মায়াবী হাতছানি এখনও অনেককে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

অনেকদিন থেকেই যাব যাব করেও যাওয়া হয় না। একদিন কয়েক বন্ধু মিলে চললাম সেই বিখ্যাত দ্বীপে। এই দ্বীপটিকে অদ্ভুত এক মায়াবী নির্জনতা ঘিরে রেখেছে । সৈকতে দাঁডালে গভীর সমুদ্র থেকে তরঙ্গে ভেসে আসে সমুদ্রের আহ্বান। হৃদয়ে বেজে ওঠে অপূর্ব সুরের মূর্ছনা। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি নিঝুম দ্বীপে জনবসতি শুরু হয়। মূলত হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়ন হতে কিছু জেলে পরিবার প্রথম নিঝুম দ্বীপে আসে।

নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইচা মাছ (চিংড়ি) ধরা পড়ত বলে জেলেরা এই দ্বীপের নাম দেয় ইছামতির দ্বীপ। এ দ্বীপের মাটি চিকচিকে বালুকাময়, তাই জেলেরা নাম দিলেন বইল্যারচর বা বালুর চর। এই দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালির ঢিবি বা টিলার মতো ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেও ডাকত।

বর্তমানে সমগ্র নিঝুম দ্বীপের প্রায় তিন হাজার একরে মানুষের বসতি আছে এবং অবশিষ্ট অংশে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে।

আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র:
একটি অঘোষিত আকর্ষণীয় লাভজনক পর্যটন কেন্দ্র নিঝুম দ্বীপ যেন স্বর্গভূমিতে পরিণত হয়েছে। দ্বীপের দক্ষিণ বৃত্তাকার প্রায় ১২ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে সমুদ্র সৈকত।

চিকচিকে মোটা বালুকাময় এ সৈকত ঢালু হয়ে চলে গেছে সমুদ্রের অভ্যন্তরে। প্রতিদিন জোয়ার ও ভাটায় যেন স্নান করায় প্রকৃতি এ বেলাভূমিকে । আর এ  বেলাভূমিতে সাগরের ফেনিল ঊর্মিমালা আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য কারও হৃদয় আলোড়িত না করে পারে না। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে সমুদ্র।

আর অমাবস্যার চাঁদে জোয়ার ভাটায় এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এক স্বর্গীয় অনুভূতি সৃষ্টি করে। জোস্নার আলোয় ফেনিল ঊর্মিমালার শীর্ষে শীর্ষে যেন এক একটি মণি মুক্তা জ্বল জ্বল করে জ্বলতে থাকে। দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়।

এ দ্বীপকে পর্যটন দ্বীপ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি রেস্ট হাউস করা হয়েছে।
একটি বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য হাতি, ঘোড়ারও ব্যবস্থা করেছে। যেভাবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যটক এ দ্বীপের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে, এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে এখানে গড়ে উঠতে পারে অত্যন্ত আকর্ষণীয় পর্যটন জোন। এ থেকেও আমাদের দেশ উপার্জন করতে পারে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা।

ইতোমধ্যে নিঝুম দ্বীপ হয়ে উঠেছে একটি চমৎকার স্বাস্থ্য নিবাস। যে কেউ এখানে এসে সুন্দর সূর্যস্নাত দিনে সমুদ্র অবগাহনে হবেন পুলকিত। বছরের ঝুঁকিপূর্ণ ঝড়ঝঞ্ঝার দিনগুলো বাদে বিশেষ করে শীত-হেমন্তে ভ্রমণ বেশ জমে ওঠে।

এখানে শহরের মতো গাড়ির ধোঁয়া নেই। ধূলি বালির আধিক্য নেই। কান ফাটানো গাড়ির হর্ন নেই। কেবল সমুদ্রের নির্মল বাতাস, শান্তস্নিগ্ধ পরিবেশ, বায়ু পরিবর্তনকারীদের জন্য এ দ্বীপটি এক স্বর্গরাজ্য। মাত্র কয়েক ঘণ্টার অবস্থানেই শরীর ও মন হয়ে উঠবে ঝরঝরে তাজা।


যাওয়ার উপযুক্ত সময়:
শহরের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে যখন হাপিয়ে উঠেন তখন জীবনকে অর্থবহ করতে নিঝুম দ্বীপে ঘুরে আসতে পারেন। শীত মৌসুমে সাগর শান্ত থাকলেও বছরের যে কোনো সময় এখানে আসা যায়। এপ্রিল থেকে সাগর ধীরে ধীরে অশান্ত হতে থাকে। তখন ঢেউয়ের উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়। তখন সাগরে নামলে দুর্ধর্ষ অভিযাত্রীর মতো মনে হবে নিজেকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পিকনিক করতে এসছে এখানে। তাদের মধ্যে হাসান ,রিজন, সেলিম রেজা বলেন,‘এ সময় সমুদ্র পাড়ি দিতে জীবনের রোমাঞ্চকর বুক-কাঁপানো অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে আমাদের। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারি হলে জীবনও হয়ে ওঠে অর্থপূর্ন। আমরা প্রথমে ভয় পাচ্ছিলাম এখানে আসতে । কিন্তু এখন দারুণ লাগছে’।

কোথায় থাকবেন:
নিঝুম রিসোর্ট নামে নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য একটি ভালো মানের রিসোর্ট। নোয়াখালীর হাতিয়ায় নিঝুম রিসোর্টের ইনচার্জ  বাংলানিউজকে জানান, এখানে ২ শয্যার কক্ষ ভাড়া ১০০০ টাকা, ৩ শয্যার কক্ষ ১২০০, ৪ শয্যার কক্ষ ১৮০০ , ৫ শয্যার ডরমিটরির ভাড়া ১০০০  এবং ১২ শয্যার ডরমিটরি ২৪০০ টাকা।

এছাড়াও ঢাকা থেকেও এ রিসোটের বুকিং দেওয়া যায়। ঢাকায় ১৭ নিউ ইস্কাটনের  শামসুদ্দিন ম্যানশন’র ১০ম তলায় অবস্থিত অবকাশ পর্যটন লিমিটেড এ বুকিং দেয়া যাবে। ফোন-৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ০১৫৫২৪২০৬০২ এবং নিঝুম রিসোর্টে ইনচার্জ, নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় নিঝুম রিসোর্টে যোগাযোগ করা যাবে। ফোন-০১৭২৪-১৪৫৮৬৪।

তাছাড়া এখানে বন বিভাগের একটি চমৎকার বাংলো আছে। পাশেই আছে জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলো। এ গুলোতে আগেভাগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা যায়।

এছাড়াও রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সাইক্লোন শেল্টারেও থাকার ব্যবস্থা করা যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।
এ দ্বীপে অনেকেই আছেন খুব বন্ধুবৎসল। পর্যটকদের এরা খুব সম্মানের চোখে দেখেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজল, সাহেদ, অর্থনীতির সাদেক বলেন, স্থানীয়রা পর্যটকদের খুব সম্মানের চোখে দেখেন। যে কোনো অসুবিধা দূর করতে আগ্রহ করে তারা নিজেরাই এগিয়ে আসেন।

নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা অনেক । হরিণ দেখতে হলে এখানে ভ্রমণকালীন কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। বনে ঢুকলে নিঃশব্দে চলাচল করতে হবে। সামান্য হইচই করলেও এখানে হরিণের দেখা মেলা ভার ।

নিঝুম দ্বীপে বিদ্যুতের সরবরাহ নেই। তবে নামা বাজার এলাকায় রাত এগারটা পর্যন্ত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় লোকজন।

কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার সহজ রুট সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে হাতিয়ার তমরুদ্দি। এ পথে এমভি পানামা এবং এমভি টিপু-৫ নামে দুটি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করে। যোগাযোগের ফোন-০১৯২৪০০৪৬০৮ এবং ০১৭১১৩৪৮৮১৩।

ভাড়া ডাবল কেবিন ১২০০ আর সিঙ্গেল ৬৫০ টাকা। ডেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা খরচ হবে। ল্ঞ্চগুলো ঢাকা থেকে ছাড়ে বিকেলে আর তমরুদ্দি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে দুপুর সাড়ে বারটায়। আর তমরুদ্দি থেকে স্কুটারে বন্দরটিলা ঘাট খরচ হবে ৪৫০-৫৫০ টাকা। আর সেখানে ট্রলারে চ্যানেল পার হলেই বন্দরটিলা । এরপর নিঝুম দ্বীপের নামা বাজার রিকশায় করে যেতে হবে ।

অন্যদিকে নিঝুম দ্বীপে ভ্রমণ প্যাকেজের আয়োজন করে থাকে লংমার্চসহ বিভিন্ন টুরিজম সংস্থা ।

বর্ষায় রিমঝিম রাঙামাটি


বর্ষায় রিমঝিম বৃষ্টির টাপুর-টুপুর শব্দে ঘরে বসে থাকতে কার না ভালো লাগে? সঙ্গে যদি হয় গরুর মাংস আর ভুনা খিচুরি তহলে তো আর কথাই নেই। কিন্তু যারা ভ্রমণ পিপাসু তাদের আবার অন্য হিসাব। বর্ষায় প্রকৃতির নতুন সাজ তাদের সব সময়ই কাছে টানে। আর তাই রিমঝিম বৃষ্টির টাপুর-টুপুর শব্দ তাদের ঘরে আটকে রাখতে পারে না। এ সময়টা তারা প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে ভালোবাসে।

কাপ্তাই লেকের বুকে ছোট্ট একটি শহর রাঙামাটি। সর্বত্রই রয়েছে নানা বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। আর বর্ষায় আসে রাঙামাটির নতুন যৌবন। তখন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে প্রকৃতির ময়ুরীখ্যাত রাঙামাটি যেন ময়ুরের এক পেখম। তাই আমরা কজন প্রকৃতিপ্রেমী গত বর্ষায় বেরিয়ে যাই রাঙামাটির উদ্দেশ্যে।
ঢাকা থেকে বাস ছেড়ে সরাসরি থামে রাঙামাটি শহরে। ঢাকা থেকে রাত দশটায় বাস ছাড়লে খুব ভোরেই রাঙামাটি পৌঁছে যায়। যাওয়ার পথে রাঙামাটির কাছাকাছি গাড়ি পাহাড় বেয়ে ছুটে যেতে দেখা যাবে। কখনও ওপরে উঠছে আবার কখনও নামছে নিচে। তখন হয়তো আপনার মনে হবে মাসুদ রানার কোনও কল্পকাহিনীর মধ্যে আছেন। গল্পের খলনায়ককে ধরতে আপনি ছুটে যাচ্ছেন রাঙামাটির অজানা পাহাড়ে। আর সঙ্গে যদি থাকে বেশ কয়েকজন বন্ধু তাহলে তো মনে না হওয়ার কোনও কারণ নেই। রাঙামাটি ভ্রমণ শুরু করা যেতে পারে শহরের একপ্রান্ত থেকে। প্রথমেই যেতে পারেন উপজাতীয় জাদুঘরে। সেখানে রয়েছে রাঙামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত নানা আদিবাসিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সময়ের নানা সরঞ্জামাদী, পোশাক, জীবনাচরণ এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য।

তারপর নেমে যান প্রকৃতি দর্শনে। প্রায় ১৭২২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ পানি আর বাঁকে বাঁকে পাহাড়ের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। তবে এ হ্রদের প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যেতে হলে আপনাকে ভাড়া করতে হবে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। চিন্তা নেই, শহরের রিজার্ভ বাজার ঘাটে পাওয়া যায় কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের নানা রকম ইঞ্জিন নৌকা। সারাদিন কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভাড়া পড়বে ১৫০০-২৫০০ টাকা। এছাড়া রাঙামাটি শহর থেকে এখন প্রতিদিন শুভলং ছেড়ে যায় আধুনিক ভ্রমণতরী কেয়ারি কর্ণফুলী। প্রতিদিন সকালে ছেড়ে আবার বিকেলে ফিরে আসে। যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। তবে কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের জন্য নৌকাটি দেখে-শুনে নিন। বর্ষাকাল থাকায় ছাউনি আছে এমন বোট ভাড়া করুন। বোটে লাইফ জ্যাকেট আছে কিনা আগেই জেনে নিন।

বর্ষার মেঘলা আকাশ, টাপুর-টুপুর বৃষ্টি, জলে টৈটুম্বুর কাপ্তাই লেক। এর মধ্যেই কখনও আকাশের ঘনকালো মেঘ ফুঁড়ে সূর্যের হাসি। শ্যালো মেশিনের ভটভট শব্দ ভেদ করে দূর থেকে ভেসে আসে পাহাড়ি পাখির ডাক। উদ্দেশ্য যদি হয় শুভলং ঝর্ণা তবে পথে পাবেন পেদা টিং টিং। মানে পাহাড়ের চূঁড়ায় বাঁশ ও বেতে ঘেরা উপজাতীয় রেস্টুরেন্ট। সেখানে পাবেন নানান ধরনের সুস্বাদু খাবার। এছাড়া রয়েছে টুকটুক ইকো ভিলেজ। কাপ্তাই লেকের একেবারে মাঝে এই ইকো ভিলেজটির সুন্দর সুন্দর কটেজে রাত কাটানোরও ব্যবস্থা আছে। তবে যাওয়ার পথেই আপনাকে খাবারের অর্ডার দিয়ে যেতে হবে। এ জন্য অবশ্য আপনার সঙ্গে থাকা নৌকার মাঝিই গাইডের ভূমিকা পালন করবে।

তারপর প্রকৃতির রূপে ঘেরা কিছুটা পথ পাড়ি দিয়ে চলে যাবেন শুভলং বাজার। এখানে আর্মি ক্যাম্পের পাশ থেকে সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের ওপরে উঠে কাপ্তাই লেকের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে বানর থেকে সাবধান। তাদের বিরক্ত করা যাবে না একদম। আর সেটা করলে ওরা কিন্তু চড়াও হতে পারে। শুভলংয়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরতি পথের শুরুতেই হাতের ডানে শুভলং ঝর্ণা। শুভলং ঝর্ণা- বর্ষাতে এ যেনো আরও মায়াবী। ঝর্ণার অঝোর ধারা দেখে মন চাইবে অনন্তকাল শুধু তাকিয়ে থাকতে। এটা ভাবতে ভাবতে থেমে গেলে হবে না, চলে যান ঝর্ণার একদম নিচে। দেখবেন ঝর্ণার জলধারা আপনার সব ক্লান্তি ধুঁয়ে নেবে।
তারপর চলে আসেন পেদা টিং টিংয়ে। প্রকৃতির পাশে বসে খেয়ে নিন মজার মজার সব খাবার। সেই সঙ্গে উপভোগ করুন আদিবাসী আনন্দ।
রাঙামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজ বনবিহার। এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর তীর্থ স্থান এটি। এখানে আছে একটি প্রার্থনালয়, একটি প্যাগোডা, বনভান্তের (বৌদ্ধ ভিক্ষু) আবাসস্থল ও বনভান্তের ভোজনালয়। প্রতি শুক্রবার ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখানে চলে প্রার্থনা। রাজ বনবিহারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন কাপ্তাই লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।
রাজবনবিহারের পাশেই কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপজুড়ে রয়েছে চাকমা রাজার রাজবাড়ি। নৌকায় পার হয়ে খুব সহজেই যাওয়া যায় এই রাজবাড়িতে। আঁকা-বাঁকা সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে গাছের ছায়ায় ইট বাঁধানো পথের মাথায় এ সুন্দর বাড়িটি। এখানে আরও রয়েছে চাকমা সার্কেলের প্রশাসনিক দফতর।
রাঙামাটি শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে রিজার্ভ বাজার ছাড়িয়ে আরও প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রয়েছে পর্যটন কমপেস্নক্স। এই কমপেস্নক্সের ভেতরেই রয়েছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুটি। সেতু পেরিয়ে সামনের পাহাড়ে উঠলে কাপ্তাই লেকের বড় অংশ দেখা যায়। এখান থেকে কাপ্তাই লেকে নৌ ভ্রমণও করা যায়। তবে এখানে সাম্পানে চড়ে ঝুলন্ত সেতুর আশপাশে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগবে। ঘণ্টা ১০০ টাকায় এখানে পাওয়া যাবে পাঁচজনের চড়ার উপযোগী সাম্পান।
জেনে রাখুন:
বাংলাদেশের একমাত্র রিকশামুক্ত শহর রাঙামাটি। তাই এই শহরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয় বেবিটেক্সিতে। এক স্টপেজ থেকে আরেক স্টপেজে পৌরসভা নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া হলো ১০ টাকা। এছাড়া রিজার্ভ নিলে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভাড়া পরবে ৬০-১০০ টাকা।
রাঙামাটি শহর থেকে কিনতে পারেন আদিবাসীদের পোশাক, তাঁতের কাপড়, আদিবাসীদের তৈরি নানা রকম হস্তশিল্প সামগ্রী ইত্যাদি।

প্রতিদিন রাত দশটায় এবং রাঙামাটি থেকে সকাল সাড়ে দশটায় ছাড়ে। এছাড়া যে কোনো বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে চট্টগ্রাম এসে সেখান থেকেও রাঙামাটি যেতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের সিনেমা প্যালেস এবং বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতি বিশ মিনিট পরপর রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বিরতিহীন বাস। ভাড়া জনপ্রতি ১০০-১২০ টাকা।

শহরে রয়েছে বেশ কয়েকটি হোটেল। এখন সেখানে পর্যটকদের ভিড় কম থাকায় হোটেলগুলোও পাওয়া যাবে খুব সস্তায়। হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতরে পর্যটন মোটেল (এসি দু’বেড ১৭২৫ টাকা ও নন-এসি দু’বেড ভাড়া ৮০৫ টাকা); শহরের কাঁঠাল তলীতে হোটেল সুফিয়া (এসি এক বেড ৯০০ টাকা, এসি দু’বেড ১২৫০ টাকা ও নন-এসি দু’বেড ৮০০ টাকা); রিজার্ভ বাজারে হোটেল গ্রিন ক্যাসেল (এসি ১১৫০-১৬০০ টাকা, নন-এসি ৭৫০-১৫০০ টাকা); কলেজগেট এলাকায় মোটেল জজ (এসি ৯০০-১১০০ টাকা, নন-এসি ৩৫০-৭০০টাকা); নতুন বাস স্টেশনে হোটেল আল-মোবা (এসি ১২০০ টাকা, নন-এসি ৩০০-৫০০ টাকা); পর্যটন রোডে হোটেল মাউন্টেন ভিউ (এসি ১২০০ টাকা ও নন-এসি ২০০-১২০০ টাকা।

ঢাকার থেকে কলাবাগান, ফকিরাপুল ও কমলাপুর থেকে সরাসরি রাঙামাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় ডলফিন পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, ইউনিক সার্ভিস, হানিফ পরিবহন ইত্যাদি। ভাড়া জনপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা।
এই বর্ষায় দুদিনের সময় বের করে ঘুরে আসুন রাঙামাটি।

বৃষ্টিতে বান্দরবানে


সবুজ পাহাড়ের মেঘের আড়ালে হারিয়ে যেতে নেই মানা। বৃষ্টির সময় প্রকৃতি যেন তার সবটুকু রূপ ঢেলে দিয়েছে, বান্দরবানে। সবুজ গালিচার ওপর আপনার আগমণে যোগ হবে ভিন্ন মাত্রা।

এই বর্ষায় এক ভিন্ন রূপেই দেখা যায় এ পর্যটন শহরকে। আমাদের দেশের ভ্রমণ পিয়াসুরা ভ্রমণের জন্য শীত মৌসুমকে বেছে নিলেও হয়ত অনেকেই জানেন না বৃষ্টির সময়ে পাহাড় ঘেরা জেলাটি যেন একটি সবুজ কার্পেটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যেদিকে দু’চোখ যাবে সবুজে সবুজে বর্নিল এক নতুন সাজে ধরা দেবে আপনার কাছে।

অবিরাম বর্ষণের জলধারার পরশে পাহাড়ের বৃক্ষরাজি নব যৌবন লাভ করে। মেঘ আর পাহাড়ের সম্পর্কের কথা তো নতুন করে বলার কিছুই নেই। তবুও বলতে হয়, পাহাড়ের সাথে আকাশের সারি সারি মেঘ-ভেলার সর্ম্পকের নতুন মাত্রা এনে দেয় এই বৃষ্টির সময়।
 এছাড়া চিম্বুক আর নীলগিরির ওপর দাঁড়িয়ে মেঘ স্পর্শ করার ইচ্ছে হলে আপনাকে অবশ্যই ভ্রমণের জন্য বেছে নিতে হবে বান্দরবানকে।

নিশ্চয় মন চাইছে মেঘের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে। তবে আর দেরি কেন, জীবনের ছক থেকে বেরিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন নীলাচলের মেঘে ঢাকা পাহাড়ে, মেঘলা লেকের স্বচ্ছ জলে, ভাসাতে পারেন ডিঙ্গি নৌকা অথবা ঘুরে আসতে পারেন চিম্বুক পাহাড়ের ম্রো আদিবাসীদের গ্রামে।

শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে দেখতে পাবেন মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে আর ১৮শ’ ফিট উঁচু নীলাচল থেকে সবুজের চাদরে ঢাকা বান্দরবানকে। বান্দরবান-চিম্বুক রোডের ৮ কিলোমিটারে রয়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা শৈলপ্রপাত। ঝর্ণা থেকে গড়িয়ে পড়া জলরাশির স্রোতের কারনে বিপদজনক হয়ে ওঠা ঝর্নায় না নামাই ভালো।

২৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বাংলার দার্জিলিংখ্যাত চিম্বুক পাহাড়। ২ হাজার ৫শ’ ফিট উঁচু এ পাহাড়টিতে না উঠলে বান্দরবান ভ্রমণের মূল আনন্দই অধরা থেকে যাবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা ভারতের দার্জিলিংয়ে বেড়াতে যান। অথচ পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো আরও উন্নত করা গেলে আমাদের বান্দরবানের সৌন্দর্য ভারতের দার্জিলিংকেও হার মানাবে।

সুরূপমায়া সুন্দরবন (সাতক্ষীরা)


Suandarban
সাতক্ষীরা শহর পেরিয়ে যতই যেতে থাকবেন বঙ্গপোসাগরের কোল ঘেঁষা সুন্দরবনের সীমায়, অজ্ঞাত কবির লেখা এই চরণগুলি আপনাকে ততই দাঁড় করাবে সুন্দর সত্যের মুখোমুখি। মানচিত্রের সবুজ যে দেশের প্রাণ, সে দেশের সবুজ কতো সুন্দর, মহোময়, উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? দেখেছেন সবুজ গ্রাম আর বন-বনানীর দিকে একবার তাকিয়ে? উপভোগ করেছেন এর মনোলোভা সৌন্দর্য? হয়তো কবির মতো বলবেন ‘সময় কোথা সময় নষ্ট করবার’।

নাগরিক জীবনের বিষাক্ত বাতাস, ক্লেদাক্ত কর্মময় জীবন থেকে ছুটি নিয়ে দেখে আসুন না গাঢ় সবুজের মেলা। যে মেলায় শুধু সবুজ খেলা করে। আর সবুজের সঙ্গে খেলা করে হরেক জীবজন্তু, পাখপাখালি, কীটপতঙ্গ আর বঙ্গোপসাগর থেকে ছুটে আসা জলভেজা বাতাস। হ্যাঁ, সুন্দরবনের কথা বলছি। যে বন আমাদের প্রাণে আনন্দের খোরাক যোগায়, শত ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে সময়কে উপভোগ করার প্রণোদনা দেয়।  সেই সময়কে কি সময় নষ্ট বলা যায়? নিশ্চয় না।
বাংলাদেশের ৬টি জেলা জুড়ে সুন্দরবন বিস্তৃত হলেও একমাত্র সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার মুন্সিগঞ্জ থেকে সরাসরি দেখা যায় সুন্দরবনের সবুজ আবহ। ঢাকা থেকে রওনা হলে সরাসরি মুন্সিগঞ্জ গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যতদূর আপনার চোখ যাবে, শুধু দেখবেন সবুজ সীমানা।

মংলা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট যেদিক দিয়েই সুন্দরবন যান না কেন, বন দেখার জন্য নদীপথে ছুটতে হবে অনেকটা দূর। একমাত্র সাতক্ষীরার কোলঘেঁষা সুন্দরবন ব্যতিক্রম। বন যেন ময়ুরের মতো সুন্দর পেখম মেলে বসে আছে তার অগণিত প্রণয়ীর প্রতীক্ষায়। সাতক্ষীরা শহর পেরুলেই রাস্তার দুপাশের বড় বড় সবুজ বৃক্ষ আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবে সুন্দরবনের পথে। আপনার গাড়ি চলতে থাকবে সবুজ টানেলের ভেতর দিয়ে।

সাতক্ষীরা দিয়ে সুন্দরবন দেখার জন্য আপনি ঢাকা থেকে রওনা হতে পারেন রাত ৯টা, ১০টা অথবা ১১টার গাড়িতে। তাহলে হাতে পাবেন একদিন বেশি সময়। গাড়ি আপনাকে সকাল ৭টার মধ্যেই পৌঁছে দেবে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে মাইক্রো অথবা পাবলিক বাসে ১৫ কিলেমিটার গেলেই দেখতে পাবেন সবুজ বন; শরীরে এসে ছুঁয়ে যাবে শীতল হাওয়া। পর্যটন খাতে আমাদের আয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এ খাত আজও অনেক পিছিয়ে। সাতক্ষীরা সুন্দরবনও তার ব্যতিক্রম নয়।

সাতক্ষীরার মালঞ্চ, কালিন্দী, রায়মঙ্গল, খোলপেটুয়া, বুড়িগোয়ালিনী নদীর তীর ছুঁয়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনে ঘোরার জন্য পর্যাপ্ত বোট থাকলেও বন দেখে এসে থাকা খাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখানে ছিলোনা কখনোই। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো পর্যায় থেকেই শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে স্থাপন করা হয়নি ভালো মানের কোনো হোটেল বা রেস্ট হাউস। তবে, সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’ মালঞ্চ নদীর তীর ঘেঁষে নির্মাণ করেছে ‘টাইগার পয়েন্ট’ নামে একটি যথেষ্ট মানসম্পন্ন রেস্ট হাউস। এছাড়া আরও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বর্ষা’ও নির্মাণ করেছে একটি বিনোদন কেন্দ্র। সুতরাং, থাকা কিংবা গাড়ি থেকে নেমে একটু ফ্রেশ হয়ে বন দেখতে বেরিয়ে পরার কোনো সমস্যা এখন আর নেই। মুন্সিগঞ্জ বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে চলে যেতে হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ঘাটে। প্রতি ঘণ্টায় এই নৌকায় ভাড়া গুনতে হবে ৩০০-৪০০ টাকা। বড় নৌকার ভাড়া একটু বেশি।

নৌকা চলতে শুরু করবে মাঝারি আকৃতির মালঞ্চ নদী দিয়ে। দুপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। তবে হরিণ, বানর, বনমোরগ প্রভৃতি প্রাণী দেখতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। অপনাকে যেতে হবে বেশ কিছুক্ষণ। নৌকা যখন ঢুকবে ছোট শাখা নদী বা খালগুলোতে তখন কিন্তু অপনার গায়ে কাটা দিতে শুরু করবে। এই বুঝি বাঘ এসে পড়ল আপনার গায়ের উপর। আর গাঢ় সবুজ অন্ধকারের মাঝে শীতল হাওয়া ভয়টা একটু বেশিই বাড়িয়ে তুলবে।
Suandarban 
বোটম্যানকে বললে নিরাপদ স্থানে আপনাকে নামিয়ে দিবে বনের মধ্যে। কিন্তু, বেশি সাহস দেখিয়ে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না, তাতে বিপদ হতে পারে। কাদায় নামার আগে খেয়াল রাখবেন পায়ের দিকে। কারণ গাছের অদ্ভুত খাড়া খাড়া শ্বাসমূল পায়ে ফুটে যেতে পারে। সুন্দরবনের সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা, খলিসাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চিনতে আপনাকে সহায্য করবে বোটম্যান অথবা গাইড। গাইড নেয়াসহ সব ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে সেই টাইগার পয়েন্ট রেস্ট হাউসের কর্মীরা।

নৌকায় চড়ার আগে কিন্তু বেশি করে শুকনা খাবার এবং পানি নিতে ভুলবেন না। কারণ নদীর লোনা হাওয়া আপনার ক্ষুধাকে বাড়িয়ে তুলবে কয়েক গুণ। বুড়িগোয়ালিনী গিয়ে নৌকা থেকে নেমেও খাবার কিনে নিতে পারবেন। সাথে বনবিভাগের পোষা হরিণ, বানর দেখতে পাবেন। বনে ঘোরা যাবে প্রায় ৬-৮ ঘণ্টা। সারাদিন ঘুরে এসে পরদিন আশপাশের গ্রামে বসবাসরত মৌয়াল, বাওয়াল ও মুন্ডা নামক আদিবাসীদের জীবনযাত্রাটা একবার দেখে নিতে পারেন।
এই এলাকার খাওয়া-দাওয়াটা কিন্তু সেরে নিতে পারেন স্পেশালভাবে। বিশেষ করে এখানে এমন কিছু মাছ পাওয়া যায় যা দেশের অন্য কোথাও দেখা পাওয়া যায়না বললেই চলে। মাছগুলোও কিন্তু অনেক সুস্বাদু। তবে পছন্দের খাবারের জন্য একমাত্র ভরসা টাইগার পয়েন্টের ক্যান্টিন। এই ক্যান্টিনে দুপুর এবং রাতের খাবার পাবেন ১০০-১২০টাকায়। এর সাথে কিছু অতিরিক্ত টাকা যোগ করে চিংড়ি, ভেটকি, ভাঙান, পাসসে, কাইন, বাঁশপাতা, খয়রা, তপস্বে, দাঁতনেসহ বিভিন্ন প্রজাতির নদীর মাছ খাওয়ার সুযোগ তো থাকছেই। তবে ভুল করে হরিণের মাংস খাওয়ার কথা না বলাই ভালো। কারণ এটা একবারেই নিষিদ্ধ।

থাকা-খাওয়া
Suandarbanথাকার জন্য সুশীলনের টাইগার পয়েন্ট এবং বর্ষার রেস্ট হাউসই ভরসা। টাইগার পয়েন্টে রুমপ্রতি ভাড়া ৫০০-১৭০০ টাকা। তবে ডরমেটরি টাইপের কিছু রুমে প্রতি বেডের ভাড়া পড়বে ২০০টাকা। এখানে ৩টি আধুনিক সুবিধাসহ কনফারেন্স রুমও আছে। এছাড়া, একসঙ্গে ১০০ জন মানুষ এখানে থাকতে ও খেতে পারবে। এখানে আরও একটি স্পেশাল সুযোগ পাবেন। সেটা হলো,  ছাদে বসে বাডর্স আই ভিউ থেকে সুন্দরবন দেখা। আর চাঁদনি রাত যদি পেয়ে যান, তাহলে তো কথাই নেই।

যাতায়াত
ঢাকার কল্যাণপুর, মালিবাগ ও গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সোহাগ, সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস, কে লাইন, একে ট্রাভেলস, এম আর, ঈগল, এসপি গোল্ডেন লাইনপরিবহনসহ প্রায় ১২টি পরিবহনে সাতক্ষীরা যাওয়া যায়। একে ট্রাভেলস এবং এম আর পরিবহনে সরাসরি যাওয়া যায় সাতক্ষীরা শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে। ভাড়া ৫০০ টাকা। তবে এসি পরিবহনে যেতে পারবেন সাতক্ষীরা সদর পর্যন্ত। ভাড়া ৭০০-১০০০ টাকা। সকাল, দুপুর ও রাতের তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িগুলো ঢাকা ছেড়ে যায়।